
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বেলগাছি গগণ হরকরা মোড়ে বেলগাছি মেডিকেল হলে প্রশাসনের অভিযান। ছবি : এনটিভি
জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল্লাহ শিলাইদহ ইউনিয়নের দাঁড়িগ্রামের বাসিন্দা এবং বেলগাছি মেডিকেল হলের মালিক। কয়েক বছর আগে তিনি মসজিদের ইমাম ছিলেন। পরে ২০১৪ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৩ সালে মাত্র ২১ দিনের একটি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি চিকিৎসক সেজে চেম্বার খুলে বসেন এবং বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কয়েকজন শিশুকে চুলকানির চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি ‘আলফাকোর্ট’ নামে স্টেরয়েড ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এর ফলে শিশুদের কারও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়, কারও শরীরে অস্বাভাবিক লোম গজাতে শুরু করে। এতে অন্তত ১০ শিশুর শারীরিক অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এ ঘটনায় ৮ মার্চ সাতজন অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযান চলাকালে স্থানীয়রা জানান, এতদিন ইব্রাহিমকে তারা ‘ডাক্তার’ হিসেবেই চিনতেন। তিনি নামের আগে ‘ডা.’ ব্যবহার করতেন এবং সিল-প্যাডও ব্যবহার করতেন। পরে জানা যায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক নন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামিমা আক্তার বলেন, মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ চিকিৎসা দিতে পারে না, বিশেষ করে স্টেরয়েড প্রয়োগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা তো নয়ই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং চেম্বারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
0 Comments